Spread the love

ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ও সরবরাহ বিপর্যয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ প্রায় সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। এর ফলে ৪০ বছরে ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) সবোর্চ স্তরে এসে দাঁড়িয়েছে। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর বরাত দিয়ে এই খবর দিয়েছে বিবিসি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) বেড়েছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, যা ১৯৮২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ।

মাসিক ভিত্তিতে নভেম্বরে সিপিআই বাড়ার হার শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ, যা অক্টোবরের চেয়ে সামান্য কম। অক্টোবরে ভোক্তা মূল্য সূচক বেড়েছিল শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ।

দেশটিতে জ্বালানির দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ, অন্যদিকে সেকেন্ড-হ্যান্ড গাড়ি, ভাড়া ও খাবারের দামও বেড়েছে। এমতাবস্থায় ভোগ্যপণ্য থেকে বাড়িভাড়া সবকিছুতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। ফলমূল ও শাকসবজি, মাংস ও বেকারি পণ্যের দাম বাড়ার কারণে বাড়িতে তৈরি খাবারের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। এছাড়া বাড়ির বাইরে রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন জায়গায় খাওয়ার ক্ষেত্রেও খরচ বেড়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবরের শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ১১ মিলিয়ন মানুষের চাকরির জন্য পদশূন্য ছিল। দেশটিতে প্রায় রেকর্ড সংখ্যক মানুষ চাকরি ছেড়ে দিয়েছে।

উত্তর ক্যারোলিনার সিনিয়র অর্থনীতিবিদ স্যাম বুলার্ড বলেন, আগামী বছর পর্যন্ত সরবরাহ ঘাটতি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এবং পরিষেবা খাতের দামও বাড়ছে। মুদ্রাস্ফীতির আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।

অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের রাজনৈতিক এজেন্ডা সোশ্যাল এসপেন্ডিং বিল পাসের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে। বাইডেন সামাজিক ব্যয় খাতে ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করবেন বলে এজেন্ডা ছিল। গত মাস থেকে এই বিল পাস করার চেষ্টা করছেন বাইডেন। অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ও ভোক্তা মূল্য সূচক বৃদ্ধি সেটার ওপর প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মহল এই বিলের বিরোধিতা করে আসছেন।

বৃহস্পতিবার শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর এই পরিসংখ্যান প্রকাশের আগে প্রেসিডেন্ট বাইডেন জানিয়েছিলেন, এই পরিসংখ্যান বা তথ্য জ্বালানির দাম কিংবা ব্যবহৃত গাড়ির দাম কমার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।

তিনি বলেন, ‘আগামীকাল (আজ শুক্রবার) নভেম্বরে জ্বালানির ওপর যে তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে তা আজকের বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না এবং এটি সামনের সপ্তাহ ও মাসগুলোতে প্রত্যাশিত মূল্য হ্রাসকে প্রতিফলিত করে না।’

প্রেসিডেন্ট বাইডেনের কাছে মুদ্রাস্ফীতি একটি চ্যালেঞ্জিং রাজনৈতিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি সাধারণ ভোটারদের সরাসরি প্রভাবিত করে। এছাড়া কিছু অর্থনীতিবিদ ভোগ্যপণ্যসহ সব জিনিসের দাম বৃদ্ধির জন্য কোভিড মহামারীর মধ্যে সহায়তা দেওয়ার জন্য তৈরি করা প্রেসিডেন্টের ব্যয় কর্মসূচিকে (এসপেন্ডিং প্রোগ্রামস) দায়ী করেছেন।

About Author

admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.