Spread the love

বর্তমানে অতি লোভনীয় ফল অ্যাভোকাডোর চাহিদা পূরণে ফলন বাড়াচ্ছে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ৷ অন্য অঞ্চলে এই ফল চাষে পরিবেশগত সমস্যা হলেও আফ্রিকার এক্ষেত্রে এগুচ্ছে ভিন্ন চাষ পদ্ধতিতে৷

‘‘একটি অ্যাভোকাডো গাছের আয়ু প্রায় ৫০ বছর৷ উগান্ডার মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৬০ বছর৷ একটি অ্যাভোকাডো গাছ মানুষের পুরো জীবন উপকার করতে পারে৷’’ এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন বেকার সেনেজেন্ডো৷ সেনেজেন্ডো বৃহত্তম অ্যাভোকাডো ফার্ম পূর্ব উগান্ডার মায়ুগ জেলার এক হাজার হেক্টর জমির মুসুবি খামারে কাজ করেন৷ অ্যাভোকাডো খামারে কাজ করে তিনি তার জীবনের স্বপ্ন পূরণ করছেন বলেও জানান৷ অ্যাভোকাডো চাষ করে দারিদ্র্যকে দূরে রাখতে চান তিনি৷
বেড়ে চলা চাহিদার কারণে এই ফলে রপ্তানি বাজার বেশ আকর্ষণীয়৷ শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে মাথাপিছু অ্যাভাকোডার চাহিদা বেড়েছে ৪০৬ শতাংশ৷ আফ্রিকাতেও অ্যাভোকাডো চাষ দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছে৷ আফ্রিকার কৃষকদের কাছে অ্যাভোকাডো এখন দারিদ্র মোচনের ফসল৷ ফলটি সেখানে তাই পরিচিতি পাচ্ছে সবুজ সোনা নামে৷ আগামী দশকে শীর্ষ রপ্তানিকারী দেশগুলোর তালিকায় উঠে আসার লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে নাইজেরিয়া ও উগান্ডা৷ কেনিয়া ইতোমধ্যেই রয়েছে শীর্ষ দশের মধ্যে৷
অ্যাভোকাডোর নানাগুন।

অ্যাভোকাডোর সালাদ উচ্চ রক্তচাপ কমায়-

পাকা অ্যাভোকাডোর খোসা ছাড়িয়ে কেটে ভিনেগার দিয়ে ব্লেন্ডারে ভালো করে মিশিয়ে নিন৷ এবার সালাদের সাথে মিশ্রনটি ঢেলে দিন৷ এই সালাদ নিয়মিত খেলে উচ্চ রক্তচাপ কমানো সম্ভব৷

অ্যাভোকাডো ড্রিংক

অ্যাভোকাডোর সাথে নারকেলের দুধ, সামান্য হলুদ গুঁড়ো, আদা বাটা,লবণ আর মধু মিশিয়ে পাঁচ মিনিট রান্না করে নিন৷ এবার এক চিমটি দারুচিনির গুঁড়ো ছিটিয়ে খেয়ে নিন৷ এই বিশেষ ড্রিংক ধমনীকে মসৃণ করবে৷

অ্যাভোকাডো মাখন

২০০ গ্রাম মাখনের সাথে অর্ধেক অ্যাভোকাডো কেটে ভালোভাবে মিশিয়ে সেটা রুটির ওপর লাগিয়ে নিন৷ এভাবে খেলে রক্তে চর্বির মাত্রা কমবে৷


অ্যাভোকাডো স্মুদি

অ্যাভোকাডোর সাথে দই, কলা পালং শাক পাতা এবং পানি দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন৷ এই স্মুদি প্রতিদিন খেলে হৃদপিণ্ড শক্তিশালী থাকে৷


অ্যাভোকাডো ফ্যাট

অ্যাভোকাডোতে রয়েছে প্রচুর ফ্যাট ৷ তবে ভয়ের কিছু নেই, কারণ, তা পুরোপুরি প্রাকতিক ফ্যাট৷ এই ফলে থাকা অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড কোলেস্টরেল স্বাভাবিক রাখতেও সহায়তা করে৷

অ্যাভোকাডো তেল

ঘরে তৈরি করে নিতে পারে অ্যাভোকাডো তেল৷ ২ কেজি পাকা ফলের খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট করে কেটে নিয়ে ১০০ গ্রাম পানিতে গরম করে একেবারে আলু ভর্তার মতো করে নিন৷ এবার ছেকে নিয়ে বোতলে ভরে ফ্রিজে রেখে দিন৷ দুই সপ্তাহ নিশ্চিন্তে খাওয়া যাবে৷

https://wvn24.com/


অ্যাভাকাডো যা যা করে-

এই তেল চোখ, ত্বক, লিভার, হাড়ের জয়েন্ট ভালো রাখবে৷ শুধু তাই নয়, ক্যানসারের ঝুঁকিও কমায়৷ এসব তথ্য জানা গেছে অস্ট্রেলিয়ার সেন্টার ফর রিসার্চ, মেলবোর্ন বিশ্ব বিদ্যালয়, জার্মানির বোখুম বিশ্ববিদ্যালয় ডেনমার্কে করা বিভিন্ন সমীক্ষায় থেকে৷

তবে অ্যাভোকাডোর বাণিজ্যিক চাষের কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে৷ লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে একারণে পানির স্বল্পতা ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে বলে সংবাদে উঠে এসেছে৷ সেখানকার শীর্ষ দুই রপ্তানিকারক মেক্সিকো ও চিলির বাণিজ্যে এর ছায় পড়তে শুরু করেছে৷ তবে এক্ষেত্রে আফ্রিকার অ্যাভাকোডা চাষীদের রয়েছে উজ্জ্বল ভবিষ্যত৷ ছোট আকারে এবং বৃষ্টির উপর নির্ভর করায় লাতিন আমেরিকার তুলনায় আফ্রিকায় অ্যাভাকোডা চাষ সুবিধাজনক এবং পরিবেশগতভাবে ক্ষতি কম হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ ও চাষীরা৷


বড় খুচরা বিক্রেতাদের প্রতিযোগিতা বাড়ায় বাজারে কফির দাম পড়ে যাওয়ায় আফ্রিকার কৃষকদের আয় কমে গিয়েছিল৷ কৃষকদের কাছে তাই আশার আলো এখন অ্যাভাকোডা৷ এই প্রসঙ্গে নাইরোবির ওয়ার্ল্ড এগ্রোফরেস্ট্রি সেন্টারের বিজ্ঞানী স্যামি কারসান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘অ্যাভোকাডো ফলটি আসলে স্বর্গের একটি উপহার, কৃষকরা কফি চাষের বিকল্প হিসাবে অ্যাভোকাডো চাষ করতে পারেন৷’’

সূত্র :DW বাংলা।

About Author

admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.